মাঘী পূর্ণিমা: একটি ধার্মিক এবং সম্রাটি উৎসব
মাঘী পূর্ণিমা বাঙালি জনগণের জীবনে একটি অমূল্যবান ধার্মিক এবং সাংস্কৃতিক উৎসব, যা প্রতি বছর মার্চ মাসে পালিত হয়। ২০২৪ সালে মাঘী পূর্ণিমা পালিত হবে ৫ই মার্চ, রবিবার। এই পূর্ণিমার তিথি এবং শুভ মুহূর্তের মাধ্যমে এটি একটি বিশেষ অনুষ্ঠান হয়।
মাঘী পূর্ণিমা এবং তার শুভ মুহূর্ত:
- পূর্ণিমা তিথি শুরু: ৪ই মার্চ, শনিবার, রাত ৯টা ২৯ মিনিটে
- পূর্ণিমা তিথি শেষ: ৫ই মার্চ, রবিবার, রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে
- স্নান ও দানের শুভ মুহূর্ত: ৫ই মার্চ, সকাল ৭টা ৩৭ মিনিট থেকে সকাল ১০টা ০৭ মিনিট পর্যন্ত
মাঘী পূর্ণিমার তাৎপর্য:
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে মাঘী পূর্ণিমা একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু, মা লক্ষ্মী এবং চন্দ্রদেবের পূজা করা হয়।
- ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই তিথিতে সমস্ত দেব-দেবী স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আসেন এবং ভগবান বিষ্ণুও এই দিনে গঙ্গা নদীতে অধিবাস করেন।
- এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান, ও পূজা করলে বিশেষ ফল লাভ করা যায়।
- মাঘী পূর্ণিমাকে ‘বসন্ত পঞ্চমী’ ও বলা হয়। এই দিনে সরস্বতী দেবীর পূজাও করা হয়।
- এছাড়াও, এই দিনে ‘কল্পবাস’ সমাপ্ত হয়। কল্পবাস হলো এক মাস ধরে পবিত্র নদীর তীরে বাস করে বেদ অধ্যয়ন ও ধ্যান করা।
মাঘী পূর্ণিমার রীতিনীতি:
- এই দিনে সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাহ্ম মুহূর্তে স্নান করা হয়।
- যারা গঙ্গার ধারে থাকেন না তারা বাড়িতে জলে তিল মিশিয়ে স্নান করতে পারেন।
- এর পর সূর্য দেবের পূজা করা হয়। অর্ঘ্য নিবেদনের মাধ্যমে সূর্যদেবকে পূজা করা হয়।
- চরণামৃত, পান, রোলি, ফল, তিল, সুপারি এবং কুমকুম ইত্যাদি ভোগে নিবেদন করা হয়।
- এরপর আরতি ও প্রার্থনা করা হয়।
- এই দিনে ধন-সম্পদের দেবী লক্ষ্মীরও পূজা করা হয়।
- এর পর দান করা যাবে।
- মাঘী পূর্ণিমার দিনে সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র নদীতে স্নান করা উচিত।
- স্নানের পর সূর্য মন্ত্র জপ করার সময় সূর্যদেবকে অর্ঘ্য নিবেদন করুন।
- স্নান করে ব্রতের সঙ্কল্প করে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা করা উচিত।
- মাঘী পূর্ণিমা একটি ধার্মিক এবং সাংস্কৃতিক উৎসব, যা পবিত্র নদীতে স্নান, দান, ও পূজা করলে আধ্যাত্মিক উন্নতি ও ইহকাল-পরকালের মঙ্গল লাভ হয়। এই দিনে ভগবান বিষ্ণু, মা লক্ষ্মী এবং চন্দ্রদেবের পূজা করা হয় এবং পবিত্র নদীতে স্নান করা হয় যাতে সকল দোষ ও পাপ প্রহারিত হয়।
কল্পবাসের অর্থ ও গুরুত্ব:
কল্পবাস হিন্দু ধর্মীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ আচার, যেখানে ভক্তরা এক মাস ধরে পবিত্র নদীর তীরে বাস করে বেদ অধ্যয়ন, জপ-ধ্যান ও সাধনা করেন। সাধারণত এই আচার মাঘ মাসে পালিত হয় এবং মাঘ পূর্ণিমার দিন শেষ হয়।
কল্পবাসের প্রধান উদ্দেশ্য:
- আধ্যাত্মিক উন্নতি: কল্পবাসের মূল উদ্দেশ্য হলো আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করা। পবিত্র নদীর তীরে বাস করার ফলে বাহ্যিক জগতের বিভ্রান্তি কমে যায় এবং ব্যক্তি নিজের ভেতরে ঝুঁকে আত্মজ্ঞান লাভের চেষ্টা করতে পারেন।
- বেদ অধ্যয়ন: কল্পবাসের সময় ভক্তরা বেদ ও অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থের গভীর অধ্যয়ন করেন। এটি তাদের হিন্দু ধর্মের জ্ঞানকে আরও গভীর করতে এবং জীবনযাপনের সঠিক পথ বুঝতে সাহায্য করে।
- শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধি: পবিত্র নদীতে স্নান করা ও সাত্ত্বিক খাবার গ্রহণ করা শারীরিক শুদ্ধি এনে দেয়, অন্যদিকে জপ-ধ্যান ও ভজন-কীর্তন থেকে মানসিক শুদ্ধি হয়।
- পাপনাশ: হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয় যে পবিত্র নদীতে স্নান করলে পাপ ধুয়ে যায়। কল্পবাসের সময় নিয়মিত স্নান ও পূজা-পাঠের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করতে পারেন।
কল্পবাসের ধরন:
- পূর্ণ কল্পবাস: এতে ভক্তরা পুরো এক মাস নদীর তীরে অতিবাহিত করেন।
- আংশিক কল্পবাস: কিছু লোক পুরো মাস নদীর তীরে থাকতে না পারার জন্য কয়েক দিনের জন্য কল্পবাস করেন।
ভারতে প্রধান কল্পবাস স্থল:
- হরিদ্বার
- ঋষিকেশ
- প্রয়াগরাজ
- কাশী
- বৃন্দাবন
কল্পবাস হলো এমন একটি ধর্মীয় আচার, যা ব্যক্তিকে শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে শুদ্ধ করতে সাহায্য করে। এটি আত্মচিন্তন ও আত্মজ্ঞান লাভেরও একটি সুন্দর সুযোগ।